সংরক্ষিত নারী আসনে পূর্বধলায় আলোচনার কেন্দ্রে অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন

10

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আভাস অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পবিত্র রমজান মাসেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ক্ষেত্রে বড় অংশই যেতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটের ভাগে। ফলে দলটির ভেতরে সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। কেন্দ্রের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও চলছে জোর তৎপরতা।

নেত্রকোণার পূর্বধলায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন। তিনি বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং শিক্ষা খাতে অবদানের কারণে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের দৌড়ে থাকতে পারেন।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাবেয়া খাতুন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন। কলেজজীবনে মুমিনুন্নিসা উইমেন্স কলেজ ছাত্রী সংসদের সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তেজগাঁও থানা বিএনপি ও মহিলা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে একই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আনন্দমোহন কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে এবং টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রাবেয়া খাতুন। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি।

রাবেয়া খাতুন রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট মৌলভী আকবর আলী পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাঁর স্বামী আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আলী তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পূর্বধলা-ধোবাউড়া অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়রা জানান।

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দল যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমি তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব। আমার লক্ষ্য থাকবে নারী শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং এলাকার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।”

তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় হাইকমান্ড। আমি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।”

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পূর্বধলার রাজনৈতিক অঙ্গনে অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুনের নাম ঘিরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here