
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়; এটি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার নির্বাচন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ এই নীতিতে বিএনপি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারে ঢাল হিসেবে দাঁড়াবে এবং শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কল্যাণে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে এবং দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় জানাতে বিএনপি বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে নেত্রকোনা-১ আসনকে একটি মডেল সংসদীয় আসনে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভায় তিনি বলেন, একটি দল সাধারণ মানুষের কাছে জান্নাতে যাওয়ার টিকিট হিসেবে ভোট চাইছে—এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও ন্যায্যতাবর্জিত বক্তব্য থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জের নির্বাচন—জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষকে রক্ষা করার, সীমান্ত অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করার এবং তারেক রহমান ঘোষিত উন্নয়ন-ভিশন বাস্তবায়নের নির্বাচন।
ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা হবে।
আমি আপনাদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, নির্বাচিত হলে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো ইনশাআল্লাহ, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কোনো সরকার শ্রমিকদের প্রকৃত কল্যাণে কাজ করেনি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভাতা ও সরকারি সুবিধা পেতে আর দলীয় নেতা বা জনপ্রতিনিধির তোষামোদ করতে হবে না।
আমি ক্ষমতার রাজনীতি করতে আসিনি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে এসেছি। আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি নেত্রকোনা-১ আসনকে একটি শ্রমিকবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো, বলেন তিনি।
নির্বাচনী জনসভায় বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটার ছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জমিয়তে ইসলাম ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপস্থিত ভোটাররা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

