নিজস্ব প্রতিনিধি: নেত্রকোনায় ‘মাঠ থেকে থালায় কীটনাশকের বিকল্প’ শীর্ষক গ্রাম আলোচনা ও সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বায়ু, পানি, মাটি ও প্রাণিকুল মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিকল্প কীটনাশক ব্যবহার ও টেকসই কৃষি চর্চায় সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে জেলা সদরের কাইলাটি গ্রামে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। গ্রাম প্রচারণায় অংশ নেন পরিবেশ অধিদপ্তর নেত্রকোনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মতিন, কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সহসভাপতি নাজমুল হক, গ্রিন কোয়ালিশনের সহ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মির্জা হৃদয় সাগর, স্থপতি রোদৌশী চক্রবর্তী, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান এবং স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা।

প্রচারণার অংশ হিসেবে গ্রামে ‘রাসায়নিক কৃষিকে না বলি’, ‘কীটনাশক ব্যবহারে সচেতন হই’, ‘জৈবকৃষি চর্চা করি’ এবং ‘বিপজ্জনক কীটনাশক ধরিত্রীকে বন্ধ্যা করছে’ এমন নানা সতর্কবার্তা লেখা প্লেকার্ড ও ব্যানার নিয়ে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তী আলোচনা সভায় বক্তারা কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব ও পরিবেশ-মানব জীবনের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি আব্দুল্লাহ আল মতিন বলেন, ধান, সবজি ও মাছ চাষে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ, পানি, মাটি এবং জনজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রাখতে হলে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে টেকসই কৃষিতে যেতে হবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক মাটি, পানি, বায়ু দূষিত করছে, প্রাণবৈচিত্র্য কমছে, মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে প্রাণঘাতী রোগে। এ বিপদ থেকে বাঁচতে সামাজিক আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

আলোচনায় কৃষকরা নিজ ঘরে থাকা বিষনাশক মানববন্ধনের মঞ্চে এনে প্রতীকীভাবে পুড়িয়ে ব্যবহার কমানোর অঙ্গীকার করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে নবান্ন উপলক্ষে পিঠা পরিবেশন করেন শিখনকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক যুব কৃষক এনামুল হক। পুরো সভা পরিচালনা করেন বারসিকের কর্মসূচি কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার লিটা ও রোখসানা রুমি।